অনলাইন ইনকাম

ব্লগিং করে যেভাবে অনলাইন থেকে আয় করবেন

মাস্টারসাব – Master Saab সব সময়ই আপনাদের কথা মাথায় রেখে অনলাইন এর বিভিন্ন খুটিনাটি নিয়ে হাজির হয়। মাস্টারসাব – Master Saab থেকে আপনি অনলাইন আর্নিং, ফ্রিল্যান্সিং, ইউটিউবিউবিং, ব্লগিং এর খুটিনাটি পেয়ে যাবেন। সুতরাং আপনাদের সাথে আমাদের এই পথচলা দীর্ঘায়িত করতে অবশ্যই আমাদের সাথে থাকুন।

কিভাবে অনলাইন থেকে আর্নিং করবেন এই পোস্টে আমরা যে পাঁচটি উপায়ের কথা উল্লেখ করেছিলাম তার মধ্যে দ্বিতীয়টি ছিল ব্লগিং। আজ আমরা ব্লগিং এর খুটিনাটি এই পোস্টে আলোচনা করবো।

ব্লগিং কি?

ব্লগ মূলত নিজস্ব ডায়েরি বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা। এবং আপনার নিজেস্ব চিন্তাভাবনা বা জ্ঞানের সমাহার। যে বিষয়ে আপনার ভালো জ্ঞান আছে তা নিয়ে অনলাইন লেখালেখি করার নাম হচ্ছে ব্লগিং।

ব্লগ সাধারনত বিভিন্ন প্রকারের আছে। তবে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায় ব্যাক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগ। অনলাইনে ব্লগ তৈরী করার জন্য ও অনেক ব্লগিং প্লাটফর্ম বা ওয়েবসাইট আছে। আপনার কাছে যেটা সবচেয়ে উপযুক্ত এবং সহজ মনে হবে সেটাতেই ব্লগ তৈরি করবেন। যেমনঃ ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগার, মিডিয়াম, কোরা ইত্যাদি। কিভাবে একটি ব্লগ তৈরি করতে হয় তা জানতে মাস্টারসাব- এর সাথেই থাকুন

প্রথম দিকে ব্লগ শখের বহিঃপ্রকাশ হলেও বর্তমানে ব্লগ এবং ব্লগিং অনলাইনে বৈধ অর্থ উপার্জনের একটি অন্যতম মাধ্যম। আমার জানামত অনেকেই প্রফেশন হিসেবে ব্লগিং কে বেছে নিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে অনেকেই সফলতার সাথে অর্থ উপার্জন করছেন। ব্লগিং করে মাসিক কত টাকা উপার্জন করা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

বাংলাদেশি কিছু জনপ্রিয় ব্লগ ওয়েবসাইটের তালিকা

  • রবি ১০ মিনিট স্কুল
  • বাংলা ব্লগ
  • টেকনেসিয়াম
  • Deam Jobs BD

ব্লগিং শুরু করার জন্য জনপ্রিয় কিছু টপিক

  • হেলথ এন্ড ফিটনেস
  • ট্রাভেল গাইড
  • এডুকেশন
  • ফ্যাশন এন্ড লাইফস্টাইল
  • রিভিউ ব্লগ
  • ইন্সপায়রেশনাল ব্লগ

ব্লগিং করার কিছু জনপ্রিয় প্লাটফর্ম

  • ব্লগার
  • ওয়ার্ডপ্রেস
  • উইক্স
  • উইবলি
  • গুগলসাইট

ব্লগিং শুরু করার ধাপ সমূহ

  • ব্লগিং টপিক নির্বাচন
  • ব্লগিং প্লাটফর্ম নির্বাচন
  • ব্লগিং এর জন্য ডোমেইন হোস্টিং কেনা
  • ব্লগিং ওয়েবসাইট সেটাপ
  • নিয়মিত ব্লগে পোস্ট করা
  • অডিয়েন্স এর কাছে আপনার ব্লগ পৌছে দেয়া

ব্লগিং থেকে যেভাবে টাকা উপার্জন করা হয়

  • বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • নিজের পণ্য বিক্রি
  • ব্লগের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্স

বিজ্ঞাপন প্রকাশ

আপনি ব্লগিং করছেন মানে কোনও বিষয়ের ওপর নিশ্চয়ই আপনার কিছু জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। যেমন ধরুন আপনি ভাল কেক বানাতে পারেন, বা আঁকতে পারেন, ব্লগে আপনার এই দক্ষতার প্রচার করুন ও ফ্রিল্যান্স কাজ জোগার করে নিন। ধরুন এরকম কোনও দক্ষতাই আপনার নেই, তাহলেও শুধুমাত্র ব্লগিং সংক্রান্ত টিপস্ দিয়েই আয় করতে পারেন আপনি। দেখবেন অনেকেই টাকা দিয়ে আপনার পরামর্শ নিচ্ছে, যা এতদিন আপনি বিনামূল্যেই দিয়ে এসেছেন। কীভাবে কাজ করে- আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করে রোজগার করতে পারেন অথবা কাজ করতে পারেন নির্দিশ্ট প্রজেক্টে। ব্লগে কিভাবে এটি ব্যবহার করবেন-

 ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি কী কী কাজ করতে পারেন তা সংক্ষেপে লিখুন,লিখুন কেন একজন আপনাকে কাজ দেবে, অন্যদের থেকে আপনি কোথায় এগিয়ে, উল্লেখ করুন যোগাযোগের নম্বর ও টাকা।

 আপনার পাঠকদের জানান কী কী কাজ আপনি করতে চান, তাঁদের আগ্রহ তৈরি করুন, তাঁদের বলুন তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের আপনার দক্ষতার কথা জানাতে। তাঁরা যেহেতু ইতিমধ্যেই আপনার ব্লগ পড়েন ও আপনার দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তাই তাঁরা সহজেই আগ্রহী হবেন।

 ব্লগ ছাড়া অন্যান্য মাধ্যম যেমন সোশ্যাল মিডিয়া, বিজ্ঞাপন ইত্যাদিতেও আপনার দক্ষতার কথা জানান। যত বেশি সংখ্যক লোক আপনার দক্ষতা সম্পর্কে জানতে পারবে কাজের সুযোগও ততই বাড়বে।

 যখন কোনও প্রজেক্ট নেবেন, তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে শেষ করুন। আপনার ব্লগ থেকে আয় করুন। কত টাকা আয় করতে পারেন- আয় নির্ভর করছে আপনার জ্ঞান ও দক্ষতার ওপর।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বেশ ভালরকমের আয় হতে পারে এই উপায়। ব্লগে লেখার মাধ্যমে কোনও একটি পণ্য বা পরিষেবার প্রচার করতে হবে আপনাকে। পণ্য বা পরিষেবাটি বাছার বিষয় সতর্ক হোন। আপনার পাঠকরা কী কিনতে চাইতে পারে সেটি বুঝে নিতে হবে আপনাকে। এরজন্য প্রয়োজন গবেষণা ও বিশ্লেষণ। প্রচার করার সময়ও হতে হবে সাবধানী, পাঠক আপনার লেখা পড়তে আপনার ব্লগে আসেন, সারাক্ষণ পণ্য বা পরিষেবার প্রচার দেখলে তিনি বিরক্ত হতে পারেন। কীভাবে কাজ করে- লেখার সঙ্গে পণ্য বা পরিষেবাটির লিঙ্ক আপনার ব্লগে প্রকাশ করতে হবে। যখন পাঠক সেই লিঙ্কে ক্লিক করবেন বা কিনবেন আপনি কমিশন পাবেন। আপনার ব্লগে কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন-

 প্রথমেই বেছে নিন কোন পণ্য বা পরিষেবার মার্কেটিং করতে চান। কয়েকটি প্রচলিত অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক হল Clickbank, OMG India, Trootrac media। এছাড়াও ফ্লিপকার্ট বা আমাজনের মতো কোম্পানিতে মার্কেটিং অ্যাফিলিয়েট হিসেবে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 পছন্দের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন পত্র পূরণ করুন। আপনি মার্কেটিং-এর জন্য কী কী কৌশল ও পদ্ধতি ঠিক করেছেন, তা জানাতে হতে পারে আবেদনের সময়।

 বেশিরভাগ ওয়েবসাইটই ২৪-৭২ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় আপনার আবেদন গৃহীত হল কি না। আবেদন গৃহীত হলে আপনার অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্টটিতে লগ-ইন করে বেছে নিতে পারেন আপনার ব্লগের জন্য উপযুক্ত লিঙ্কটি। উপযুক্ত লিঙ্ক বা বিজ্ঞাপনটি আপনার ব্লগে যোগ করার পর দেখে নিন তা ঠিক মতো কাজ করছে কি না।

অ্যাফিলিয়েট হিসেবে আয় করার জন্য আপনি এবার প্রস্তুত। এরপর যখনই কেউ ওই লিঙ্কে ক্লিক করবে অথবা পণ্য বা পরিষেবাটি কিনবে আপনি তা থেকে কমিশন পাবেন। কত টাকা পেতে পারেন- বিক্রয়মূল্যের ২.৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ অবধি পেতে পারেন আপনি।

নিজের পণ্য বিক্রি

সবথেকে স্থায়ী ও নিশ্চিত আয়ের পদ্ধতি ব্লগের সাহায্যে নিজের পণ্য বিক্রি করা। এক্ষেত্রে আয়ের ওপর সবথেকে বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। যেহেতু পণ্য ডিজাইন, দাম নির্ধারণ, মার্কেটিং পুরোটাই ব্লগার নিজে করেন তাই আয়ও তাঁর ওপরই নির্ভর করে। কীভাবে কাজ করে- নিজের দক্ষতা অনুযায়ী একটি পণ্য বা পরিষেবা তৈরি করুন। তারপর ব্লগের মাধ্যমে সেটি বিক্রি করুন। আপনার ব্লগে কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন-

 নিজে হাতে বা কাউকে দিয়ে কোনও একটি পণ্য বা পরিষেবা তৈরি করুন। ইবুক, ভিডিওকোর্সের মত ডিজিটাল পণ্য বা বই, কুকি ইত্যাদি যা ইচ্ছে তৈরি করতে পারেন আপনি।

 পণ্য বা পরিষেবার মূল্য নির্ধারণ করুন। পণ্যটি কিভাবে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেবেন, ক্যুরিয়র বা পোস্টে না কি ক্রেতাকে নিজে এসে সংগ্রহ করতে হবে তা ঠিক করুন। ঠিক করুন বিক্রয়মূল্য সংগ্রহের পদ্ধতি, পে-প্যাল, নগদ, চেক, ব্যাঙ্কে সরাসরি টাকা পাঠানো, আপনার এবং ক্রেতার দুজনের জন্যই সবথেকে বেশি সুবিধাজনক পদ্ধতিটি বেছে নিন।

 ব্লগে একটি ল্যান্ডিং পাতা যোগ করুন, সেখানে আপনার তৈরি পণ্যের বিবরণ দিন, পণ্যটির ব্যবহার, উপযোগীতা সম্পর্কে বিশদে লিখুন, যোগ করুন কেনার বোতাম।

 নিজের পাঠকের বাইরে অন্যদের মধ্যেও আপনার পণ্যের প্রচার করুন। ব্যবহার করুন সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেল মার্কেটিং বা অ্যাডওয়ার্ডের মত মাধ্যমগুলি।

 আপনার পণ্য বিক্রি করুন ও তা থেকে আয় করুন। কত টাকা আয় করতে পারেন- এর কোনও উচ্চসীমা নেই। দাম, উত্পাদনমূল্য সবই যেহেতু আপনিই ঠিক করবেন তাই আয়ও আপনার হাতে, যত ভাল পণ্য, বিক্রিও তত বেশি, আর তা থেকে আয়ও। বেশি আয় করবেন কীভাবে- পাঠকের চাহিদা বিশ্লেষণ করুন, এমন পণ্য তৈরি করুন যা আপনার পাঠক কিনতে উৎসাহী.

ব্লগের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্স

আপনি ব্লগিং করছেন মানে কোনও বিষয়ের ওপর নিশ্চয়ই আপনার কিছু জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। যেমন ধরুন আপনি ভাল কেক বানাতে পারেন, বা আঁকতে পারেন, ব্লগে আপনার এই দক্ষতার প্রচার করুন ও ফ্রিল্যান্স কাজ জোগার করে নিন। ধরুন এরকম কোনও দক্ষতাই আপনার নেই, তাহলেও শুধুমাত্র ব্লগিং সংক্রান্ত টিপস্ দিয়েই আয় করতে পারেন আপনি। দেখবেন অনেকেই টাকা দিয়ে আপনার পরামর্শ নিচ্ছে, যা এতদিন আপনি বিনামূল্যেই দিয়ে এসেছেন। কীভাবে কাজ করে- আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করে রোজগার করতে পারেন অথবা কাজ করতে পারেন নির্দিশ্ট প্রজেক্টে। ব্লগে কিভাবে এটি ব্যবহার করবেন-

 ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি কী কী কাজ করতে পারেন তা সংক্ষেপে লিখুন,লিখুন কেন একজন আপনাকে কাজ দেবে, অন্যদের থেকে আপনি কোথায় এগিয়ে, উল্লেখ করুন যোগাযোগের নম্বর ও টাকা।

 আপনার পাঠকদের জানান কী কী কাজ আপনি করতে চান, তাঁদের আগ্রহ তৈরি করুন, তাঁদের বলুন তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের আপনার দক্ষতার কথা জানাতে। তাঁরা যেহেতু ইতিমধ্যেই আপনার ব্লগ পড়েন ও আপনার দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তাই তাঁরা সহজেই আগ্রহী হবেন।

 ব্লগ ছাড়া অন্যান্য মাধ্যম যেমন সোশ্যাল মিডিয়া, বিজ্ঞাপন ইত্যাদিতেও আপনার দক্ষতার কথা জানান। যত বেশি সংখ্যক লোক আপনার দক্ষতা সম্পর্কে জানতে পারবে কাজের সুযোগও ততই বাড়বে।

 যখন কোনও প্রজেক্ট নেবেন, তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে শেষ করুন। আপনার ব্লগ থেকে আয় করুন।

কত টাকা আয় করতে পারেন- আয় নির্ভর করছে আপনার জ্ঞান ও দক্ষতার ওপর। এছাড়াও আপনার দক্ষতার চাহিদার ওপরও নির্ভর করছে আয়ের পরিমাণ। আপনি যদি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং জটিল প্রজেক্টে কাজ করার উপযোগী হন তাহলেই বাড়বে আয়। বেশি আয় করবেন কীভাবে- নিজের কাজের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করুন, বুঝতে না পারলে পাঠকদের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে জেনে নিন আপনার এই কাজের জন্য তাঁরা কত টাকা দিতে রাজি। বেশিরভাগ সময়ই ব্লগার নিজের কাজের জন্য কম মূল্য নির্ধারণ করেন, ফলে নিজের উপযুক্ত আয় করতে পারেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button